জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অন ক্যাম্পাস অনার্স প্রোগ্রাম পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন ফি কয়েকগুণ বৃদ্ধি এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অন ক্যাম্পাস অনার্স প্রোগ্রাম পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন ফি কয়েকগুণ বৃদ্ধি এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীরা বলছেন, “শিক্ষা কি তবে অপরাধ?” এমন প্রশ্ন এখন তাদের মুখে মুখে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, অন-ক্যাম্পাস অনার্স প্রোগ্রামটি ২০২৩ সালে চালু হয়। শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন নীতিগত ও প্রশাসনিক জটিলতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। একাধিক দফা আন্দোলনের পরও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
গত ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন ফি সংক্রান্ত একটি নোটিশ জারি করে। পূর্বে যেখানে ফি ছিল ৩ হাজার ৫০০ টাকা, সেখানে নতুন নোটিশ অনুযায়ী তা বাড়িয়ে ২৩ হাজার ৮৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কোনো কোনো বিভাগে এই ফি প্রায় ৩০ হাজার টাকায় পৌঁছায়। আকস্মিক এই বৃদ্ধি শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
শিক্ষার্থীরা জানান, ফি কমানোর দাবিতে তারা একাধিকবার শিক্ষক, ডিন ও ভাইস চ্যান্সেলরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তবে প্রত্যাশিত সাড়া না পেয়ে তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হন। গতকাল তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন এবং ফি কমানোর দাবিতে ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।
অভিযোগ উঠেছে, কর্মসূচি চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কর্মচারী অতর্কিতভাবে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলায় কয়েকজনের মাথা ও চোখে গুরুতর আঘাত লাগে এবং রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। তবে শিক্ষার্থীরা দাবি করছেন, অতীতেও হামলার ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও তার কোনো দৃশ্যমান ফলাফল তারা পাননি।
একজন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জীবন কি তবে এমনই থাকবে? শিক্ষা গ্রহণ করা কি অপরাধ?” আরেকদিকে ভাইস চ্যান্সেলরের একটি বক্তব্য নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, তিনি বলেছেন, “চাষার ছেলে চাষা হবে। উচ্চ শিক্ষা মৌলিক অধিকার না।” যদিও এ বক্তব্য নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। আজও মিটিং চলাকালীন সময়ে পরিচালকগণ মিটিংয়ে প্রবেশ করে অন ক্যাম্পাস অনার্স প্রোগ্রাম বন্ধের হুমকি দেয় এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আগামীকাল থেকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না , এমনটাও বলা হয়।
শিক্ষা অধিকার নিয়ে চলমান এই সংকট নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে ,উচ্চ শিক্ষা কি সত্যিই সবার জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত? দেশের বৃহত্তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থার একটি হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের ঘটনা শিক্ষাঙ্গনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
শিক্ষা গ্রহন করতে এসে দেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার এই পরিণতি দেশে নজিরবিহীন।
