বিএনপি কর্মীদের প্রতি নির্দেশ:- ১। ভোটকেন্দ্রে যারা পোলিং এজেন্ট থাকবেন, তারা যেন ভোট শুরুর অন্তত


 বিএনপি কর্মীদের প্রতি নির্দেশ:-

১। ভোটকেন্দ্রে যারা পোলিং এজেন্ট থাকবেন, তারা যেন ভোট শুরুর অন্তত ১ ঘন্টা আগে প্রিজাইডিং অফিসারের কাছ থেকে ব্যালট পেপারের সমস্ত ‘বালাম বই’ (ব্যালটের বান্ডিল) এর হিসাব নেন। গণভোটের ব্যালটসহ। প্রতিটি বালামে কতোটি ব্যালট আছে তা আলাদা কাগজে লিপিবদ্ধ করতে হবে। ধরা যাক মোট বালাম বই ১০টি। প্রতিটিতে ৫০০ করে ব্যালট পেপার। তাহলে মোট ব্যালট পেপার = ১০ X ৫০০ = ৫০০০টি। গণভোটের ব্যালট ও ধানের শীষওয়ালা ব্যালটের হিসাব আলাদা করে নোট রাখবেন।


এবার ভোট গ্রহণ শেষ হলে (অর্থাৎ ভোট গণনা শুরু হওয়ার আগে) ব্যালটের বালাম বই আবার হিসাব করতে হবে। মোট কতোটি ব্যালট পেপার ভোটাররা ব্যবহার করেছেন তা বের করতে হবে। 


ধরা যাক ১০টি বালাম বই থেকে ব্যালট ছেঁড়া হয়েছে ৩৫০০টি। এবার ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর দেখতে হবে বাতিল ভোট বা নষ্ট হওয়া ভোটসহ মোট সিল মারা ব্যালট ৩৫০০টি কি না। যদি ৩৫০০ হয়, তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু যদি ৩৫০০-এর বেশি হয়, যেমন ৪৫০০টি, তাহলে বুঝতে হবে গুপ্ত জালিয়াতের দল গোপন কক্ষে সাথে করে নিয়ে আসা, বা অন্য কোনোভাবে সিল মারা ব্যালট বাকসোতে ঢুকিয়েছে।


এমনটি হলে সাথে সাথে ভোটকেন্দ্র ঘেরাও করে ফেলতে হবে। প্রিজাইডিং অফিসারসহ কাউকে এক চুল নড়তে দেওয়া যাবে না। ব্যালট বাকসো নিরাপদ হেফাজতে রাখতে হবে।


২। ভোটকেন্দ্রে অবশ্যই নির্লোভ ও সন্দেহাতীতভাবে বিশ্বস্ত কর্মীকে পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দিতে হবে। পোলিং এজেন্ট যেন শিক্ষিত ও স্মার্টফোন চালানোয় দক্ষ হয়, এটা নিশ্চিত করতে হবে। এজেন্টের মোবাইলে আগে থেকে সমস্ত জরুরি যোগাযোগের নম্বর সেইভ করে দিতে হবে। অসুস্থ, অতি বয়স্ক, নিরক্ষর, এমন কাউকে পোলিং এজেন্ট করা যাবে না। গুপ্ত দোযখীবাহিনী সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে পোলিং এজেন্টদের টাকা দিয়ে হাত করতে। বিশেষ করে ঢাকা ও জেলা শহরের আসনগুলোতে।


৩। ভোটের বাকসো, অর্থাৎ ভোট দেয়ার পর যে-বাকসোতে ব্যালট পেপার ফেলা হবে, সেই বাকসো যেন সর্বদা পোলিং এজেন্টদের চোখের সামনে থাকে, এটা নিশ্চিত করতে হবে। ভোটার যখন বাকসোতে ব্যালট ফেলবেন, তখন খেয়াল রাখতে হবে কতোটি ব্যালট ফেলছেন। কোনো ভোটার অতিরিক্ত ব্যালট বা সাথে করে নিয়া আসা সিল মারা ব্যালট ফেলছেন মনে হলেই সাথে সাথে পাকড়াও করতে হবে। কোনোপ্রকার অবহেলা করা যাবে না।


৪। ভোটের বাকসো এক মুহুর্তও চোখের আড়াল করা যাবে না। প্রিজাইডিং অফিসার বলতে পারে, এই বাকসোটা ভরে গেছে, এটা আলাদা রুমে রেখে আসি। নো, এটা কোনোভাবেই হতে দেওয়া যাবে না। বাকসো ভরে গেলেও তা পোলিং এজেন্টদের সামনে থাকবে। আবার গণনার আগে প্রিজাইডিং অফিসার বলতে পারে, আপনারা একটু চা-বিস্কুট খান, আমরা বাকসোগুলো গোছাই, এই বলে বাকসো সব একসাথে করার নামে আলাদা রুমে নিতে চাইবে। এই ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না। ডাকসুতে এটা করে বাকসো পাল্টে ফেলেছিলো। কোনো কারণে একাধিক ভোট কক্ষের বাকসো এক কক্ষে আনার দরকার হলে, সেই বাকসো আনার সময় পোলিং এজেন্টকে বাকসোর পিছু পিছু আসতে হবে, এবং বাকসো যে-কক্ষে রাখা হবে সেই কক্ষে বাকসোর সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই ভোট শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভোটের বাকসোকে ১ সেকেন্ডের জন্যও চোখের আড়াল রাখা যাবে না।


৫। ভোটের লাইনে কাউকে সন্দেহজনক মনে হলেই বিনা দ্বিধায় পাকড়াও করে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেবেন। পর্যাপ্ত নারী কর্মী রাখবেন, যেন বুরকা পরে কেউ ভিক্টিম কার্ড খেলতে চাইলে তাকে ঘিরে ধরা যায়। ভোট শুরুর অন্তত ৫ দিন আগে থেকে সম্ভাব্য পোলিং এজেন্ট ও কেন্দ্রকর্মীকে সকল প্রাসঙ্গিক জিনিস শিখিয়ে দেবেন। বিশেষ করে ঢাকার আসনগুলোতে।


৬। ভোট দেয়া শেষে স্থানীয় বিএনপি ও বাংলাদেশের পক্ষের অন্যান্য রাজনীতিক দলের কর্মীদের একটি অংশ নিকটস্থ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আশেপাশে অবস্থান নেবেন। ঢাকার আশেপাশের জেলার কর্মীদের একটি অংশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চলে আসতে হবে। সাথে হালকা খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখবেন। ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট একটি অহিংস বিপ্লব। বাংলাদেশকে এই দিন রাহুর গ্রাস থেকে মুক্ত করতে হবে। সব ভেদাভেদ ও মতপার্থক্য ভুলে বাংলাদেশের পক্ষের সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

Next Post Previous Post